ফিলিস্তিন-ইসরায়েল উভয় দেশের রাজধানী হবে জেরুজালেম

| আপডেট :  ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২০  | প্রকাশিত :  ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২০

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট নিরসনে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও ভূখণ্ড সংযুক্তীকরণের (অ্যানেক্সেশন) তৎপরতার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ মহাসচিব কয়েকটি প্রস্তাব সামনে এনেছেন। এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয় রাষ্ট্রের রাজধানী হবে জেরুজালেম।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাইড-লাইন বৈঠকে আন্তোনিও গুতেরেস এ মন্তব্য করেছেন। কানাডা, ফ্রান্স, সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের আয়োজনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

গুতেরেস বলেন, স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত, কার্যকর ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় শর্তগুলো ‘পদ্ধতিগতভাবে মুছে ফেলা হচ্ছে’।

তিনি বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ, নতুন বসতি স্থাপন এবং বসতিস্থাপনকারীদের (সেটলার) সহিংসতা পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলাও এর অন্তর্ভুক্ত।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মতে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য পথ হলো দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান। এর ভিত্তি হবে- ১৯৬৭ সালের আগের সীমারেখা, আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব এবং পূর্ববর্তী চুক্তিগুলো। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গুতেরেসের প্রস্তাব
ক. ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করতে হবে;

খ. ভূখণ্ড সংযুক্তীকরণ ঠেকাতে হবে;

গ. ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমর্থন দিতে হবে;

ঘ. দখলদারত্বের অবসান এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করতে একটি বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করতে হবে।

যার কোনো বিকল্প নেই
এই লক্ষ্য অর্জনে সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘের কয়েকটি সদস্যরাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানান গুতেরেস। তিনি বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরকে একটি বৈধ ফিলিস্তিনি সরকারের অধীনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে।

চূড়ান্ত লক্ষ্য
দুটি সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন নিরাপদ ও স্বীকৃত সীমান্তের মধ্যে পাশাপাশি অবস্থান করবে এবং জেরুজালেম হবে উভয় রাষ্ট্রের রাজধানী।

গুতেরেস বলেন, ‘এর কোনো বিকল্প নেই। সময় ফুরিয়ে আসছে।’

‘দ্য রোড অ্যাহেড’ শীর্ষক বৈঠকে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং গাজার জন্য একটি বিস্তৃত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ‘নিউইয়র্ক ঘোষণা’ গৃহীত হওয়ার পর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ওই ঘোষণায় বিশ্বনেতারা ২০২৩ সালে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসানের অঙ্গীকার করেছিলেন। ওই যুদ্ধ গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এবং ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

গুতেরেস বলেন, ‘ফিলিস্তিনি জনগণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে যারা শান্তি চান, তাদের জন্য দুই রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না।’

 

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত