ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী পাঠানো নিয়ে রাশিয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি

ইউক্রেনে ন্যাটোর শান্তিরক্ষী পাঠানো নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া।
বুধবার (২৩ মার্চ) রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এবং রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ পৃথক এ হুঁশিয়ারি দেন।
মূলত শান্তিরক্ষী পাঠাতে পোল্যান্ড যে প্রস্তাব দিয়েছিলো তার জেরেই এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া।
সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী পাঠালে ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি সংঘাত শুরু হবে, যা আমরা সবাই এড়িয়ে চলতে চাই।
একই দিন রুশ দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ন্যাটো যদি সত্যিই ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী পাঠায় তাহলে সেটা হবে খুবই বেপরোয়া ও বিপজ্জনক একটি সিদ্ধান্ত হবে।
এর আগে সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রতিবেশী পোল্যান্ড জানিয়েছে, রুশ আগ্রাসন ঠেকাতে ন্যাটোর আগামী সম্মেলনে ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী পাঠানোর ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দেবে পোল্যান্ড।
উল্লেখ্য, পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য কয়েক বছর আগে আবেদন করে ইউক্রেন। মূলত, এ নিয়েই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর মধ্যে ন্যাটো ইউক্রেনকে পূর্ণ সদস্যপদ না দিলেও ‘সহযোগী দেশ’ হিসেবে মনোনীত করায় দ্বন্দ্বের তীব্রতা আরও বাড়ে। ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য আবেদন প্রত্যাহারে ইউক্রেনের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে যুদ্ধ শুরুর দুই মাস আগ থেকেই ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় দুই লাখ সেনা মোতায়েন রাখে মস্কো। কিন্তু এই কৌশল কোনো কাজে না আসায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দুই ভূখণ্ড দনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া। ঠিক তার দুদিন পর ২৪ তারিখ ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে ইউক্রেনে এই হামলা শুরু করে।
এ দিকে চলমান এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে ইউক্রেন ছেড়েছেন প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ। যুদ্ধে ইউক্রেনের ১৩শ’ সেনা নিহত এবং রাশিয়ার ১৫ হাজার ৬০০ সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। তবে রাশিয়া বলছে, যুদ্ধে তাদের প্রায় ৫০০ সৈন্য নিহত এবং ইউক্রেনের আড়াই হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া জাতিসংঘ জানিয়েছে, রুশ অভিযানে ইউক্রেনে ৯২৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সূত্র : রয়টার্স
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
