ময়মনসিংহে আতশবাজির কারাখানায় বিস্ফোরণে ২ নারী শ্রমিকের মৃত্যু

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের নান্দাইলে আতশবাজির কারখানায় বজ্রাপাতে নয়, ভয়াবহ বিস্ফোরণে দুই নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২০ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৬ টার দিকে উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের দক্ষিণ বাঁশাটি গ্রামে বোরহান উদ্দিনের আতশবাজির কারখানায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, ওই এলাকার আবুল হোসেনের স্ত্রী নাছিমা বেগম (৩০) ও একই গ্রামের আব্দুল গণি’র স্ত্রী আফিলা বেগম (৪৫)।
বোরহান উদ্দিন ওই এলাকার চাঁন মিয়া মুন্সির ছেলে। কারখানা ছাড়াও তার কসমেটিকস’র ব্যবসা ছিল।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, স্থানীয় বোরহান উদ্দিন দীর্ঘদিন যাবত নিজের ঘরে আতশবাজি’র কারখানা
তৈরি করে এ ব্যবসা করে আসছিলো।ঘটনার দিন ভোর ৬ টার দিকে দুই নারী শ্রমিক কারখানায় কাজ করতে আসে। কাজ শুরু করার সময় বৃস্টিসহ বজ্রপাত হচ্ছিল। এসময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই নারী মারা যায়। বিস্ফোরণে বিল্ডিংয়ের দেয়াল ও চাল উড়ে গেছে। এঘটনায় কারখানার মালিক বোরহান উদ্দিন, তার স্ত্রী ও সন্তানসহ ৫ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
জেলা পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান বলেন, স্থানীয় লোকজন জানত এখানে স্বল্পপরিমান পটকা তৈরী হতো। পরে ঘটনাস্থলে এসে দেখতে পেরেছি বিপুল পরিমান পটকা এখানে তৈরী হতো। সেই পটকার উপাদানের পাশে একটি বিস্ফোরিত গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া গেছে। এই ছাড়া এখানে অন্য কোন ইস্যু নেই। এসব থেকেই মুলত বিস্ফোরণ হয়েছে।
বিস্ফোরণের সময় বজ্রপাত হচ্ছিল বলেই প্রথমে বজ্রপাতের কথা বলা হয়েছিল। এখানে সিআইডির এক্সপার্টরা কাজ করছে। পরে আরও বিস্তারিত বলা যাবে বলেও জানান তিনি।
এই ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তারা পলাতক আছে। এখানে যারা মারা গেছে তারা শ্রমিক ছিল। তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কারখানার কোন অনুমোদন ছিল কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কারখানার অনুমোদন ছিল না। তবে, এই ঘটনার সাথে যে বা যারাই জড়িত। তাদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা হবে।
এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ গণমাধ্যমকে বলেন, প্রথমে স্থানীয়দের কাছে জানতে পেরেছিলাম। যে বজ্রপাতে আতশবাজির কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। পরে ঘটনাস্থলে এসে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের বিষয়টি জানতে পেরেছি।
স্থানীয় আব্দুস সালাম বলেন, বিকট শব্দ বিস্ফোরণ হয়েছে। তখন আমরা মনে করেছিলাম বজ্রপাত হয়েছিল। পরে ঘটনাস্থলে এসে দেখি বিস্ফোরণে বিল্ডি উড়ে গেছে। আমরা জানতাম স্বল্প পরিস্বরে বোরহান উদ্দিন পটকা তৈরী হতো। কিন্তু এত বেশি পটকা তৈরী করত বিষয়টি জানা ছিল না।
নিহত আফিলা বেগমের স্বামী আব্দুল গণি বলেন, স্ত্রী আফিলা বেগম ৬ থেকে ৭ মাস যাবত এখানে কাজ করে আসছে। সপ্তাহে আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার মজুরি পেত। এখানে কতদিন যাবত পটকা তৈরী বিষয়টি জানা নেই। তবে এই ঘটনায় যারাই জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
