আলামত নষ্টের অভিযোগে ধর্ষণ মামলার দায়িত্ব থেকে ওসিকে অপসারণ, তদন্ত কমিটি

| আপডেট :  ২৩ আগস্ট ২০২২, ০৯:৪৯  | প্রকাশিত :  ২৩ আগস্ট ২০২২, ০৯:৪৯

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় একটি ধর্ষণ মামলার আলামত নষ্ট করার অভিযোগে উঠেছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালার বিরুদ্ধে। বাদী ওসির বিরুদ্ধে আলামত নষ্টের অভিযোগ এনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বগুড়ার পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবদুল রশিদকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান আতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুর রশিদ বলেন,ধর্ষন মামলার আলামত নষ্টের অভিযোগে তদন্ত কর্মকর্তা ওসি কৃপা সিন্ধু বালার নিকট থেকে নিয়ে মামলাটি তদন্তের জন্য জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জালশুকা হাবিবর রহমান ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের শিক্ষক মুরাদুজ্জামান ওরফে মুকুলকে (৪৮) গত বছরের অক্টোবরে ধুনট পৌর এলাকার দক্ষিন অফিসারপাড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেন। সেখানে তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। ওই বাসার মালিকের মেয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। মুরাদুজ্জামান একদিন কৌশলে জড়িয়ে ধরে মুঠোফোনে ছবি তোলেন। এরপর ওই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করেন। গত ১২ মে আবারও ধর্ষণের চেষ্টা করলে ওই ছাত্রী চিৎকারে দেয়। এ সময় স্বজনেরা ছুটে এলে মুরাদুজ্জামান পালিয়ে যান। এরপর ওই ছাত্রীর কিছু অশালীন ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন মুরাদুজ্জামান। পরে ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে গত ১২ মে ধুনট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় পুলিশ মুরাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ও অশালীন ভিডিও ধারণ করা মুঠোফোন জব্দ করে। মুরাদুজ্জামান বর্তমানে বগুড়া কারাগারে আছেন।

বাদীর লিখিত অভিযোগে জানা যায়, মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা নিজেই। ১৮ মে আসামি মুরাদুজ্জামানকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর হেফাজত থেকে আরও একটি মুঠোফোন জব্দ করেন। ওই মুঠোফোনে পাওয়া কয়েকটি অশালীন ভিডিও ক্লিপ সিডিতে কপি করে নেন ওসি। এসব সিডি ও মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানোর কথা। কিন্ত ওসি কৃপা সিন্ধু বালা আসামী পক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুস নিয়ে মামলার আলামত নষ্ট করার জন্য গত ১৯ মে জব্দ করা মুঠোফোন দুটি তিনি আদমদীঘি থানার একজন উপপরিদর্শকের কাছে পাঠিয়ে দিয়ে ফোনে থাকা সব ভিডিও ক্লিপ ও তথ্য মুছে ফেলেন । এরপর শুধু ওই দুটি মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এবিষয়ে ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মামলাটির তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। মুঠোফোন দুটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। এরপরও তদন্ত যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সে জন্য পুলিশ সুপারের নির্দেশে তদন্তভার ডিবির কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ২ আগস্ট ওসির বিরুদ্ধে মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা মুঠোফোন থেকে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র অন্যকে দেখানো এবং মুছে ফেলার অভিযোগ আনেন মামলার বাদী। অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলার তদন্ত কার্যক্রম থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটিও করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জব্দ করা মুঠোফোনে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ছিল কি না, তা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদর দপ্তরের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তে মুঠোফোনে ধর্ষণের ভিডিও ধারণের প্রমাণ পাওয়া গেলে আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় আরও মামলা হবে। এ ছাড়া মুঠোফোন থেকে ভিডিও মুছে ফেলার দায়ে ওসির বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত