সন্তানের লা/শ কোলে নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে বিচার চাইলেন মা

| আপডেট :  ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩১  | প্রকাশিত :  ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩১

সন্তানের নিথর দেহ কোলে নিয়ে বিচার চেয়ে রাস্তার দাঁড়িয়েছেন এক মা। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব ভাউতিতা সড়কে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। ১৩ মাসের শিশুকন্যার মৃত্যুর জন্য তার জন্মদাতা পিতা ও কথিত প্রেমিক হৃদয় বেপারীকে দায়ী করে তার বিচার দাবি জানিয়েছেন ওই মা।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী মা ও তার পরিবার অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে একই এলাকার হৃদয় বেপারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান তিনি। সম্পর্কের এক পর্যায়ে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গত ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বরিশালের শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। সে সময় হাসপাতালে হৃদয়ের পাশাপাশি তার মামা রফিক হাওলাদার ও নানা মান্নান হাওলাদার উপস্থিত ছিলেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কৌশলে নবজাতক শিশুকে নিয়ে পালিয়ে যান হৃদয় ও তার স্বজনরা। পরে শিশুটিকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে তারা গা ঢাকা দেন। সেখান থেকে এক ভিক্ষুক শিশুটিকে উদ্ধার করে চাইল্ড হোমে পাঠান। ঘটনার তিন মাস পর খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার আইনি প্রক্রিয়া ও ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করে গত ৯ মার্চ অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে নিজেদের জিম্মায় আনেন।

পরিবার জানায়, অসুস্থ শিশুটিকে পুনরায় শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার সকালে শিশু জেসমিন মারা যায়। সন্তানের এই অকাল মৃত্যুর জন্য হৃদয় বেপারীর প্রতারণা ও অবহেলাকেই দায়ী করছেন স্বজনরা।

এই ঘটনায় নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে গত ৯ মার্চ ঝালকাঠি থানায় হৃদয় বেপারীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন। মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে ঘাতক হৃদয়ের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অভিযুক্ত হৃদয় বেপারী বর্তমানে পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে তার বাবা আবুল বেপারী ছেলের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, ‘ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে, তবে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।’

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত