আদমদীঘিতে সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনচার্জ ডা. ফজলে রাব্বী

প্রতিনিধি, আদমদীঘি (বগুড়): চিকিৎসা বঞ্চিত একজন মুমূর্ষু রোগীর সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ মিলেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনচার্জ ডা. ফজলে রাব্বীর বিরুদ্ধে। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়া ছাড়াও তিনি সাংবাদিকের সাথে করেছেন অশোভন আচরণ।
জানা গেছে, দউপজেলা সদরের তালশন মাঝিপাড়া গ্রামের শ্রী কালাচাঁদ সরকার নামের শ্বাসকষ্ট জনিত এক রোহীকে ৫ মে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা সদরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় তার স্বজনরা। ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করার পর রোগীর অবস্থা বেগতিক হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই রোগীকে চিকিৎসা করতে গড়িমসি করতে থাকেন বলে জানিয়েছেন রোগীর স্বজনরা। এক পর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের সাফ জানিয়ে দেয় তাদের এম্বুলেন্সের তেল নাই, আপনারা অন্য মাধ্যমে বগুড়া নিয়ে যান। এমন সময় সেখানে দৈনিক দিনকাল পত্রিকার আদমদীঘি উপজেলা প্রতিনিধি মো. হেদায়েতুল ইসলাম উজ্জ্বল গিয়ে দেখতে পায় যে ওই হাসপাতালের জরুরী বিভাগের শয্যায় রোগী কালাচাঁদ শ্বাসকষ্টে কাতরাচ্ছেন। তিনি রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে হাসপাতালের এম্বুলেন্স চালকের সাথে কথা বলার সময় ইনচার্জ ডা. ফজলে রাব্বী উত্তেজিত হয়ে তেড়ে এসে ওই সাংবাদিকের সাথে অশোভন আচরণ করার এক পর্যায়ে তার এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সাংবাদিকের সাথে অশোভন আচরণ করার সময় ওই রোগীর স্বজনরা এগিয়ে এসে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। মুর্হুতের মধ্যে ঘটনা জানাজানি হবার পর স্থানীয় সাংবাদিক মহল ছাড়াও সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফুঁসে উঠেন। এমন অবস্থায় রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। অবশেষে ওই রোগীর স্বজনরা আদমদীঘি পাশের নওগাঁ থেকে এম্বুলেন্স নিয়ে এসে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে রোগী কালাচাঁদ মৃত্যুবরণ করেন।
এবিষয়ে মৃত কালাচাঁদ সরকারের ছেলে বিপুল সরকার বলেন, তার বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার এক ঘন্টা পরও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি।
এবিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আবু তালেব দুলাল ও রেজাউল করিমসহ অসংখ্য ভুক্তভোগী জানান, ডাক্তার ফজলে রাব্বী ইনচার্জ হয়ে আসার পর থেকে এই হাসপাতালে ভালো কোন চিকিৎসা দেওয়া হয় না। সেই সাথে ইনচার্জ, নার্সসহ অন্য সব স্টাফরা রোগী ও রোগীর স্বজনদের সাথে দুর্ব্যবহার করে থাকেন। আমরা এই ডাক্তারের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দ্রুত বদলি করার দাবি জানাচ্ছি। এসংবাদ পাঠানো সময় পর্যন্ত ডাক্তার ফজলে রাব্বী কর্কৃক ছিনিয়ে নেয়া সাংবাদিক হেদায়েতুল ইসলাম উজ্জ্বলের মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হয়নি। এবিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ডাক্তার ফজলে রাব্বীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সংগ্রহ করা যায়নি।
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
