আমিরাতকে ইরানের হুঁশিয়ারি: ইসরাইলের সঙ্গে হাত মেলানো ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ

সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ‘গোপন’ সফরের খবর প্রকাশ্যে আসার পর এবং ইরান-বিরোধী অভিযানে আবুধাবির ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে তেহরান জানিয়েছে, ইরানের সাথে শত্রুতা করা হবে একটি ‘বোকামিপূর্ণ জুয়া’ এবং এর পরিণাম হবে ভয়াবহ।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে আব্বাস আরাগচি বলেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী এখন জনসমক্ষে যা ফাঁস করছেন, ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনেক আগেই তা আমাদের নেতৃত্বকে জানিয়েছিল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তেহরানের বিরুদ্ধে জিয়নবাদীদের সাথে হাত মেলানো একটি ‘ক্ষমার অযোগ্য’ অপরাধ। যারা বিভেদ সৃষ্টি করতে ইসরাইলের সাথে চক্রান্ত করছে, তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, সম্প্রতি ইরান-বিরোধী মার্কিন-ইসরাইলি অভিযানে আমিরাত অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। তেহরানের অভিযোগ অনুযায়ী, আমিরাত শুধু মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীকে আতিথেয়তাই দেয়নি, বরং ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুর গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে। এছাড়া আমিরাতের বিমানঘাঁটিগুলো ইরানের ওপর হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করতে দেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে দেশটি।
গত ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কথা উল্লেখ করে ইরান জানিয়েছে, বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার এবং জর্ডানের পাশাপাশি আমিরাতের মাটি ব্যবহার করেই ইরানি ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও বসে থাকেনি; তারা এসব দেশে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরাইলি কৌশলগত অবস্থানগুলোতে একশ’র বেশিবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও এই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে আমিরাতি প্রতিনিধির বক্তব্যের পাল্টা জবাবে আব্বাস আরাগচি বলেন, ঐক্যের খাতিরে আমি আমার মূল বক্তব্যে আমিরাতের নাম নিইনি। কিন্তু সত্য এটাই, আমার দেশের বিরুদ্ধে চালানো আগ্রাসনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরাসরি জড়িত ছিল। যখন হামলা শুরু হয়েছিল, তারা এমনকি একটি নিন্দাসূচক বিবৃতিও দেয়নি।
তেহরানের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ইরান বারবার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, যে দেশই তাদের বিরুদ্ধে হামলার পথ প্রশস্ত করবে, তাদের সরাসরি দায়ী করা হবে। আবুধাবির পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুর সফর অস্বীকার করা হলেও, ইরানের এই সরাসরি অভিযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে এক চরম উত্তেজনার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
