সিরাজদিখানে বালুচর পশুর হাট দখলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বালুচর বাজার সরকারি পশুর হাটকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২২ মে) সকাল ৯টার দিকে বালুচর বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে হাট ইজারাদার কমিটির কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে আগামী ২৩ মে শনিবার ও ২৬ মে মঙ্গলবার বালুচর বাজারে গরু-ছাগলের হাট বসার কথা রয়েছে। এ হাটের ইজারা নিয়েছেন গণধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান।
হাটকে সুষ্ঠু, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ইজারাদারের পক্ষ থেকে মোঃ মোক্তার হোসেন ও মোঃ শহীদ বাউলকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এ উপলক্ষে শুক্রবার সকালে বিভিন্ন গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয়দের নিয়ে বালুচর বাজারে হাট পরিচালনা কমিটির এক সভার আয়োজন করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সভা চলাকালে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মোল্লাকান্দি গ্রামের সরকার বাড়ি ও মুন্সিবাড়ি গ্রুপের লোকজন মোঃ শহীদ বাউলের ওপর হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শহীদ বাউলের গরুর খামারে জমির মুন্সি ও আসাদ সরকারের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় শহীদ বাউল বাধা দিতে গেলে তাকে টেঁটা দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে খবর পেয়ে তার লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়।
পরে শহীদ বাউলকে রক্ষা করতে বাউল বাড়ির লোকজন এগিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে বাজার এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
এ বিষয়ে হাটের ইজারাদার মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান বলেন, বাজারের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো খামারি ও ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, যাতে কেউ এই হাটে গরু-ছাগল কিনতে বা বিক্রি করতে না আসে। আমরা চাই সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে হাট পরিচালিত হোক।
এ বিষয়ে সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, ঈদকে সামনে রেখে এলাকার অন্যতম বৃহৎ এই পশুর হাটকে ঘিরে যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
