আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসাতেই যুদ্ধ বাধায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

| আপডেট :  ২২ মে ২০২৬, ০২:২৭  | প্রকাশিত :  ২২ মে ২০২৬, ০২:২৭

ইরানের শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে দেশটির সাবেক কট্টরপন্থি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসানোর একটি সুনির্দিষ্ট ও বিস্ময়কর লক্ষ্য নিয়ে গত ফেব্রুয়ারির যুদ্ধে জড়িয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানে গৃহবন্দি দশা থেকে আহমাদিনেজাদকে মুক্ত করার জন্য ইসরায়েলি বিমানবাহিনী একটি হামলা চালিয়েছিল, যা ছিল মূলত ইরানে পুতুল সরকার বসানোর বহুস্তর বিশিষ্ট একটি গোপন পরিকল্পনার অংশ।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দিনগুলোতেই ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন, ইরানের ভেতর থেকে কেউ একজন দেশটির দায়িত্ব নিলে সবচেয়ে ভালো হবে। তদন্তে দেখা গেছে, ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আহমাদিনেজাদকে ঘিরেই এ ঝুঁকিপূর্ণ পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। আহমাদিনেজাদকে এ পরিকল্পনায় যুক্ত করা হলেও যুদ্ধের প্রথম দিনই তেহরানে তার বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনি আহত হলে পুরো পরিকল্পনাটি ভেস্তে যায়। মার্কিন কর্মকর্তা ও আহমাদিনেজাদের এক সহযোগী জানান, মূলত তার পাহারায় থাকা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্যদের হত্যা করে তাকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছিল। হামলায় তার নিরাপত্তা চৌকিটি ধ্বংস হয় এবং রক্ষীরা নিহত হলেও আহমাদিনেজাদ বেঁচে যান। তবে এ ঘটনার পর শাসন পরিবর্তন নিয়ে তিনি মোহভঙ্গ হন এবং এরপর থেকে তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির নেতা নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী বন্দি করার পর সেখানে ডেলসি রদ্রিগেজকে ক্ষমতায় বসিয়ে যেভাবে ট্রাম্প প্রশাসন কাজ করছে, সে মডেলটিই ইরানে আহমাদিনেজাদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আহমাদিনেজাদ খামেনির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন, তিনবার তার প্রেসিডেন্ট পদের মনোনয়ন বাতিল করা হয় এবং তাকে পূর্ব তেহরানের নারমাক এলাকায় গৃহবন্দি করে রাখা হয়।

২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আহমাদিনেজাদ ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার ডাক দিয়েছিলেন এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচির তীব্র সমর্থক ও আমেরিকার কট্টর সমালোচক ছিলেন। ফলে তাকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি ট্রাম্পের অনেক উপদেষ্টার কাছেও অবিশ্বাস্য ও অবাস্তব মনে হয়েছিল। যদিও ২০১৯ সালে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আহমাদিনেজাদ ট্রাম্পের প্রশংসা করেছিলেন। তা ছাড়া, বিগত বছরগুলোয় ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ গুয়াতেমালা এবং হাঙ্গেরিতে আহমাদিনেজাদের সফর পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরায়েলের সঙ্গে তার গোপন যোগাযোগের জল্পনাকে আরও উসকে দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত আহমাদিনেজাদকে ঘিরে ইসরায়েলের পরিকল্পনা ইরানের শাসন ব্যবস্থার দৃঢ়তার কাছে ব্যর্থ হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ইরানের শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার এ পরিকল্পনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, সামরিক লক্ষ্য অর্জন শেষে এখন কূটনীতিকরা ইরানের পরমাণু সক্ষমতা স্থায়ীভাবে বন্ধের চুক্তির জন্য কাজ করছেন।

 

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত