ইসরায়েলকে রক্ষায় থাড ক্ষেপণাস্ত্রের অর্ধেকই ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র

| আপডেট :  ২২ মে ২০২৬, ১১:২৩  | প্রকাশিত :  ২২ মে ২০২৬, ১১:২৩

সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের হামলা থেকে ইসরায়েলকে রক্ষা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের টার্মিনাল হাই-অল্টিট্যুড এরিয়া ডিফেন্স থাড (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অর্ধেকেরও বেশি ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এই বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের দিকে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ২০০টির বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে। এ ছাড়া ইসরায়েলকে রক্ষায় ১০০টির বেশি এসএম-৩ ও এসএম-৬ ইন্টারসেপ্টরও ছোড়া হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েল নিজে ১০০টির কম অ্যারো ইন্টারসেপ্টর এবং প্রায় ৯০টি ডেভিড স্লিংস সিস্টেমের ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু হলে ইসরায়েলকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভবত আরও বেশি ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হবে। কারণ, ইসরায়েল তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘ইসরায়েল একা যুদ্ধ করে জিততে সক্ষম নয়। কিন্তু বাস্তবে কেউ এটা জানে না। কারণ, তারা কখনো পেছনের দিকটা দেখে না।’

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন এই প্রতিবেদনে ‘ভারসাম্য রাখা হয়নি’ উল্লেখ করে অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধকারী ইন্টারসেপ্টর বিশাল প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক ও সক্ষমতার মাত্র একটি উপাদান।’ ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাস প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এমন আর কোনো অংশীদার নেই, যার ইসরায়েলের মতো সামরিক সদিচ্ছা, প্রস্তুতি, অভিন্ন স্বার্থ ও সক্ষমতা রয়েছে।’

ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছে যে তাদের ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গত মাসে দেশটি অ্যারো ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন নাটকীয়ভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে ওয়াশিংটন পোস্টের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। তবে সে সময়ও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, তাদের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক গোলাবারুদের যথেষ্ট মজুত রয়েছে।

ইসরায়েলের রয়েছে বহুস্তরবিশিষ্ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। বিভিন্ন উচ্চতায় আসা হুমকি মোকাবিলায় সেখানে বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কাজ করে। এর সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অ্যারো সিস্টেম। অ্যারো-২ বায়ুমণ্ডলের ভেতর এবং মহাকাশ উভয় জায়গাতেই কাজ করতে পারে। আর অ্যারো-৩ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরের অংশে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে। একটি অ্যারো-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের আনুমানিক মূল্য ২০ থেকে ৩০ লাখ ডলার। এটি তৈরি করতে কয়েক মাস সময় লাগে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে সঠিক সময়সীমা প্রকাশ করেনি ইসরায়েল।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যে সামরিক অভিযান শুরু করে, তার উদ্দেশ্য ছিল ইরানি শাসনব্যবস্থার সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিসহ বিভিন্ন হুমকি দূরে সরিয়ে দেওয়া এবং ‘এমন পরিস্থিতি তৈরি করা’, যাতে ইরানের জনগণ সরকার উৎখাত করতে পারে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ও অন্য নেতারা এমন কথাই বলেছেন।

যুদ্ধ চলাকালে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ২১ জন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক ও বিদেশি নিহত হন। পাশাপাশি পশ্চিম তীরে নিহত হন আরও চার ফিলিস্তিনি। সব মিলিয়ে, শত শত কেজি বিস্ফোরক বহনকারী অন্তত ১৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ ছাড়া ক্লাস্টার বোমা ওয়ারহেড বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানার ৫০টিরও বেশি ঘটনা ঘটে, যেখানে শত শত পৃথক স্থানে বিস্ফোরণের চিহ্ন পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত