আদমদীঘিতে সিলগালা করা ডিলারের সার গুদাম খুলে নেওয়ার অপতৎপরতা

| আপডেট :  ২১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫২  | প্রকাশিত :  ২১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫২

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার আদমদীঘিতে ভর্তুকি মূল্যের রাসায়নিক সার নিয়ে এক ডিলার কর্তৃক দুর্নীতি করার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সিলগালা করা সার গুদাম খুলে নেওয়ার অপতৎপরতা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্য ডিলারদের মধ্যে নেতিবাচক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার একটি ইউনিয়নের জন্য বিএডিসি অনুমোদিত রাসায়নিক সার ডিলারের অনুকূলে বরাদ্দকৃত সরকারি ভর্তুকি মূল্যের ডিএপি ও এমওপি সার নীতিমালা অনুসরণ না করে অন্য ইউনিয়নের খুচরা সার ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রি করার মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

এঘটনায় ১৯ জুলাই রবিবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

এ সময় বিএডিসির বীজ ও সার ডিলার মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা ও বিক্রয় কেন্দ্রের গুদাম সিলগালা করে দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. রবিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক সিলগালার দুই দিন পর মঙ্গলবার সার ডিলার প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে তদবির শুরু করেন। অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতাধর একটি মহলের মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে সিলগালাকৃত গুদাম খুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে অন্য সব ডিলার ও সচেতন জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। উপজেলার কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের কড়ইহাট পয়েন্টের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি ভর্তুকি মূল্যের সার বিক্রয় নীতিমালা অনুসরণ না করে ডিলার কর্তৃক চড়া দামে উপজেলা সদরের এক খুচরা ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রি করে দেয়। এরপর ১৮ জুলাই সকালে দুই ভুটভুটি যোগে শতাধিক বস্তা নন-ইউরিয়া সার সরিয়ে নেয়ার সময় উপজেলা সদরের কালিবাড়ি নামক স্থানে হেদায়েতুল ইসলাম উজ্জল নামক এক কৃষক সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং তিনি সারবাহী দুই বাহনের চালকদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সার চোরাকারবারির ঘটনা জানাজানি হয়ে যায়। খবর পেয়ে বিএডিসির বীজ ও সার ডিলার এম,এ, কাসেম মোবাইল ফোনে কৃষক ও সাংবাদিক হেদায়েতুল ইসলাম উজ্জ্বলের নিকট ওই স্যারের মালিকানা স্বীকার করেন এবং সারবাহী বাহন ছেড়ে দেওয়া ও এ সংক্রান্ত সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।

বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে একাধিক সাংবাদিক উপজেলা কৃষি অফিসার রবিউল ইসলামকে অবহিত করেন, কিন্তু তিনি ওই সারগুলো বাহিরের সার দাবি করে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন। অবশেষে এঘটনায় শনিবার বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা এবং রবিবার বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সার ডিলার জানান, প্রশাসনিক অনুমোদন ও ডিলার-টু-ডিলার স্থানান্তরের নীতিমালা অনুসরণ না করেই সার বিক্রয় ও পরিবহন করা হচ্ছিল, যা পুরোপুরি চোরাকারবারি কার্যক্রম। শনিবার ও রবিবার সংবাদ প্রকাশিত হবার পর প্রশাসনের টনক নড়ে। রবিবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতেন অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর, ভ্রাম্যমাণ আদালত ডিলার মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং বিক্রম কেন্দ্রের গুদামটি সিলগালা করেন। মঙ্গলবার সিলগালা খুলে দেওয়া হচ্ছে মর্মে অন্য ডিলারদের মাধ্যমে পাওয়া খবরের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি মাসুমা বেগম সাংবাদিক দেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কারো কোনো তদবিরের সিলগালা খুলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত