দুমকিতে ১১টি পূজামণ্ডপে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রতিমা শিল্পীরা

| আপডেট :  ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৬  | প্রকাশিত :  ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৬

দুমকী (পটুয়াখালী ) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকিতে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১১ টি পূজামণ্ডপে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরী শিল্পীরা। শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় বাঁশ, কাঠ, খড় ও কাদামাটি দিয়ে তৈরি প্রতিমার কাঠামোর কাজ শেষে চলছে রং তুলির কাজ। মাটির প্রলেপ ও কারুকাজের শেষ ধাপ, আবার কোথাও প্রতিমায় দেওয়া হচ্ছে রং-তুলির শেষ আঁচড়। এরপর প্রতিমাগুলো অলংকার ও সাজসজ্জায় সজ্জিত করা হবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উৎসবকে ঘিরে পটুয়াখালীর দুমকির ১১ টি পূজামণ্ডপে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। পূজার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়ে বিভিন্ন এলাকার প্রতিমা শিল্পী ও কারিগররা এখন দিন-রাত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

উপজেলার কয়েকটি পূজামন্ডব সরেজমিনে পরিদর্শণে দেখা যায়, বাঁশ ও কাঠের কাঠামোর ওপর খড় দিয়ে প্রতিমার অবয়ব তৈরি করে তাতে কাদামাটির প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে। শুকিয়ে যাওয়ার পর মাটির ওপর সূক্ষ্ম কারুকাজ করা হচ্ছে। শিল্পীরা নিখুঁতভাবে প্রতিমার চোখ, মুখমণ্ডল, পোশাক ও বিভিন্ন অলংকারের নকশা ফুটিয়ে তুলছেন।

প্রতিমা শিল্পীরা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিমার চাহিদা বেশি সম্মানীও ভালো পাচ্ছেন।

প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয় কয়েক মাস আগে। প্রথমে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর খড় দিয়ে প্রতিমার অবয়ব তৈরি করে কয়েক ধাপে মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়। মাটি শুকানোর পর রং ও সাজসজ্জার কাজ শেষ করে প্রতিমা মণ্ডপে প্রদর্শন করা হয়।

প্রতিমা শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি প্রতিমা তৈরিতে কয়েক মাস সময় লাগে। প্রতিমার আকার, নকশা ও কারুকাজের ওপর নির্ভর করে এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়। বড় ও বিশেষ নকশার প্রতিমা তৈরিতে সময় ও শ্রম বেশি লাগে। ফলে এসব প্রতিমার দামও তুলনামূলক বেশি।

এদিকে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন ও পূজা উদযাপন পরিষদ। দুমকি উপজেলায় এবার ১১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

উপজেলা সদরের শ্রী শ্রী হরি মন্দিরের পুরোহিত দিলীপ চক্রবর্তী বলেন, অন্যান্য বছরের মতো এবারেও সার্বজনীন দুর্গোৎসব পালিত হবে। কারিগররা শেষ প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আশা করি সকলের সহযোগিতায় ভালোভাবে উৎসবটি পালন করা যাবে। আমাদের যেকোন উৎসব পালন করতে মুসলিম সম্প্রদায় আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করছে।

মুরাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ তারিকুল ইসলাম খান জানান, সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। ইতোমধ্যে ছাত্রদল ও যুদলের সহায়তায় একটি টীম গঠন করা হয়েছে। তাঁরা উৎসব চলাকালীন সবগুলো মন্দিরে নিরাপত্তাবলয় হিসেবে কাজ করবে।

উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক শ্যামল চন্দ্র মিএ বলেন, উপজেলা প্রশাসন আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হবে।

দুমকি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মো. সেলিম উদ্দীন জানান, দুর্গোৎসবকে ঘিরে পুলিশ আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। সবকটি পূজামন্ডবে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত