ফাইনালে তুলকালাম: যবিপ্রবির নারী ফুটবলার ও শিক্ষকদের হেনস্তার অভিযোগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে

| আপডেট :  ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪২  | প্রকাশিত :  ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪২

আল আমিন, যবিপ্রবি প্রতিনিধি: যশোর আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল (ছাত্রী) প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচ রূপ নিয়েছে রণক্ষেত্রে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) নারী খেলোয়াড়দের মারধর এবং সাথে থাকা শিক্ষকদের হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে আয়োজক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আয়োজকরা ব্যর্থ হওয়ায় এবং নিরাপত্তার অভাবে প্রাথমিকভাবে খেলা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে যবিপ্রবি দল।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, খেলার একপর্যায়ে যবিপ্রবি দলের গোলকিপার অসুস্থ হয়ে মাঠে পড়ে গেলে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এর একপর্যায়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক খেলোয়াড় তেড়ে এসে যবিপ্রবি দলের খেলোয়াড় রুমির গলায় চেপে ধরেন।

ভুক্তভোগী খেলোয়াড় রুমি ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মূলত বাহির থেকে (বহিরাগত) প্লেয়ার নিয়ে আসছিল, যাদের কোনো বৈধ প্রমাণ ছিল না। এই একই কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ও ওদের সাথে খেলেনি। খেলার মাঝে আমাদের কিপার পড়ে গেলে আমরা শুধু রেফারিকে বলতে যাই। তখনই ওদের এক প্লেয়ার এসে আমার গলায় চাপ দেয়। পরে ওনারা বেশি উত্তেজিত হয়ে আমাদের ওপর অ্যাটাক করে।

মাঠের নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রুমি আরও বলেন, “আমাদের কোনো গার্ড বা সিকিউরিটি ছিল না। ওনাদের প্লেয়াররা খুবই খারাপ আচরণ করেছে, এমনকি লাঠি ও গাছের ডাল ভেঙে আমাদের ওপর আক্রমণ করতে এসেছে। এই মারমুখী পরিবেশে আমরা আর মাঠে নামব না।”

ঘটনার বিষয়ে খেলোয়াড়দের সাথে আগত যবিপ্রবির ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ফারহানা ইয়াসমিন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে যারা খেলছে, তারা মূলত তাদের শিক্ষার্থী নয়—এমন অভিযোগ ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েরও ছিল। গতকালই ঢাবি একই কারণে ওয়াকআউট করে মাঠ ছেড়েছিল। কিন্তু আয়োজকদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও খেলোয়াড়দের বৈধতার আশ্বাসে আমরা আজ মাঠে নেমেছিলাম।”

ড. ফারহানা আরও অভিযোগ করেন, “খেলার শুরু থেকেই আমাদের খেলোয়াড়দের স্লেজিং ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও তাদের দলের খেলোয়াড়রা আমাদের এক খেলোয়াড়ের কলার চেপে ধরে। এরপর মাঠের বাইরে থাকা তাদের সমর্থকেরা লাঠিসোঁটা ও গাছের ডাল ভেঙে মারমুখী হয়ে মাঠে ঢুকে পড়ে। আমাদের কাছে থাকা ভিডিও ফুটেজে এর স্পষ্ট প্রমাণ আছে যে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্সি পরিহিত খেলোয়াড়রাই মাঠের বাইরে থেকে গাছের ডাল ভেঙে নিয়ে আসছে মারধর করার জন্য।”

খেলার এমন প্রতিকূল ও অনিরাপদ পরিবেশে কোনোভাবেই ম্যাচ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খেলা স্থগিত রয়েছে এবং যবিপ্রবি দল মাঠ ছেড়ে চলে এসেছে। এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত