আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গর্ভকালীন সেবা কার্ড প্রদানে ঘুস গ্রহণের অভিযোগ

| আপডেট :  ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৩  | প্রকাশিত :  ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৩

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: উপজেলা সদরের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা ইউনিটে গর্ভকালীন সেবা কার্ড প্রদানের সময় প্রতি জন গর্ভধারিনীর নিকট থেকে দুইশত টাকা করে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ মিলেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে কর্মরত নূরুল হুদার বিরুদ্ধে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা ইউনিট কার্যালয়ে ঘটেছে এ ঘটনা।

জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা ইউনিটে অতিরিক্ত দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী নূরুল হুদা গর্ভকালীন সেবা কার্ডধারীদের নিকট থেকে দুইশত টাকা করে গ্রহণ করছেন এমন সংবাদ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল যায় গণমাধ্যম কর্মীরা। ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য মোতাবেক হাতে নাতে ধরা পড়ে সেখানে অতিরিক্ত দায়িত্বরত হিসাবে কর্মরত নূরুল হুদা।

সরেজমিন দেখা যায়, এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা ইউনিটের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষারিক পদে কর্মরত নুরুল হুদা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ওই বিভাগের মেডিকেল অফিসারের কার্যালয়ে বসে গর্ভকালীন সেবা কার্ডে স্বাক্ষর ও সিল প্রদান করছেন। তার ব্যবহার করা সিল যাচাই করে দেখা যায় সেটি ইতোমধ্যে বদলি হয়ে যাওয়া একজন নারী কর্মচারীর। একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী কি ভাবে মেডিকেল অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন সেটা সেবা প্রার্থীসহ সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়াও নুরুল হুদা তার আত্মীয় পরিচয়ের একজন বহিরাগত যুবককে দিয়ে সেবা কার্ড ও রেজিস্ট্রার লিখে নিচ্ছেন।

এসময় পরিবার পরিকল্পনা ইউনিটের নন-টেকনিক্যাল শাখার অতিরিক্ত (মূল কর্মস্থল বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলা) সহকারী মেডিকেল অফিসার শারমিন জাহান ওই তুতীয় শ্রেণির কর্মচারী নুরুল হুদা কর্তৃক গর্ভকালিন সেবা কার্ড প্রদানের সময় জনপ্রতি দুইশত টাকা করে নেওয়ার বিষয়টি নিয়মিত চলছে বলে জানান এবং এদিনের ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ফোনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।

এ ব্যাপারে ওই ইউনিটে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন কর্মকর্তা বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুব আলমের সাথে সোমবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকের জানান, আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বদলীজনিত কারণে আমাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি আদমদীঘিতে সপ্তাহে একদিন মঙ্গরবারে যাই। কিন্তু আগের মেডিকেল অফিসার গর্ভকালীন সেবা কার্ড প্রদানের কাজটি করতেন সপ্তাহের প্রতি রবিবার। সেই শিডিউল মোতাবেক এদিন অনপুস্থিতির কারণে আমি অফিস স্টাফ নুরুল হুদাকে সেবা কার্ড প্রদানে অনুমতি দিয়েছি। কিন্তু তিনি প্রতিজন গর্ভধানীর নিকট থেকে দুইশত টাকা করে নিচ্ছেন সে এব্যাপারে আমি কিছু জানি না। তবে ঘটনাটি জানাজানি হবার পর ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

এদিকে রবিবার সরেজমিনে এ ঘটনা বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফজলে রাব্বীর কার্যালয়ে গিয়ে আলাপকালে তিনি বলেন, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা ইউনিট আমার তত্ত্বাবধানে নাই। এটির জন্য একজন আলাদা মেডিকেল অফিসার রয়েছেন, ফলে আমি এব্যাপারে কিছু বলতে পারবো না।

ফোকাস কি-ওয়ার্ড ও স্লাগ ও মেটা ডিসক্রিপশন ও ট্যাগ ও মেটা কিওয়ার্ড লিখে দাও

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত