ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ করল পাকিস্তান, বড় সংকটের আভাস

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং অবৈধ চোরাচালান বন্ধের কারণ দেখিয়ে ইরানের সঙ্গে সমস্ত সীমান্ত বাণিজ্য সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির বেলুচিস্তান প্রদেশের প্রধান দুটি সীমান্ত গাবদ-রিমদান ও তাফতান দিয়ে পণ্য পারাপার আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশ দেয়া হয়।
বেলুচিস্তান সরকারের প্রতিনিধি শাহিদ রিন্দ জানান, সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান ঠেকানো এবং নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভুয়া তথ্যে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কথাবার্তা চলছে এবং খুব শিগগিরই এই বাণিজ্য পথ আবার খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
ইরানের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, সীমান্ত বন্ধের বিষয়টি সাময়িক এবং এটি কিছু ‘কারিগরি সমস্যায়’ ঘটেছে। দুই দেশই সমস্যাটি মিটিয়ে ফেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
হঠাৎ এই বাণিজ্য স্থগিত হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় গ্যাসের সিলিন্ডার, চাল, তাজা ফল ও অন্যান্য জরুরি পণ্যবোঝাই শত শত ট্রাক আটকা পড়ে রয়েছে। কোয়েটা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি তাদের ব্যবসায়ীদের আপাতত ইরান থেকে নতুন কোনো পণ্য কেনাবেচার অর্ডার না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে বলেছেন, সীমান্তটি পাকিস্তানের রান্নার গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। এই সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন চার হাজার টনেরও বেশি এলপিজি গ্যাস দেশে আসত। ফলে পথটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে পাকিস্তানের করাচিসহ অন্যান্য বড় বড় শহরে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে এবং খোলা বাজারে গ্যাসের দাম একলাফে অনেকটা বেড়ে যেতে পারে।
তবে বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও সীমান্ত দিয়ে সাধারণ যাত্রী যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র: দ্য ডন
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
