স্কুলশিক্ষকের বাড়িতে ছাত্রীর মায়ের অবস্থান

| আপডেট :  ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০১:০৩  | প্রকাশিত :  ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০১:০৩

শরীয়তপুরের ডামুড্যার ধানকাঠি ইউনিয়নে বিয়ের দাবিতে আক্তার হোসেন নামে এক স্কুলশিক্ষকের বাড়িতে দুই সন্তানের জননী এক প্রবাসীর স্ত্রী অবস্থান নিয়েছেন। রোববার দুপুরে উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের চরপাতালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

আক্তার হোসেন ৫৫নং বাহের চর হাওলাদার কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও চরপাতালিয়া গ্রামের হাসান আলী মাস্টারের ছেলে।

ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, ওই নারীর স্বামী প্রবাসী। প্রায় আট মাস ধরে স্কুলশিক্ষক আক্তার হোসেনের সঙ্গে ওই নারীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। এমনকি ঢাকায় নিয়ে রাখেন আক্তার। এখন তার স্বামীর বাড়ির লোকজন জেনে গেছে। তার স্বামী তাকে ফোন করে তালাকনামা পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এ ঘটনায় বিয়ের দাবিতে রোববার সকালে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের চরপাতালিয়া গ্রামে স্কুলশিক্ষক আক্তার হোসেনের বাড়ি আসেন ওই নারী। তবে এ সময় আক্তার বাড়িতে ছিলেন না। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি নিয়ে বসলেও সমাধান করতে পারেনি বলে জানা গেছে।

আক্তার হোসেনের মা ফাতেমা বেগম বলেন, আমি কিছুই জানি না। ওই মেয়ে আমার ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক আছে দাবি করে বাড়িতে এসে উঠেছে। আমি ওই মেয়েকে বুঝিয়ে বলেছিলাম যে ঢাকায় যাও, গার্মেন্টসে কাজ করে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করো। কিন্তু আমার কথা সে শুনল না, আমার মানইজ্জত সব নষ্ট করে দিল। আমার ছেলে আক্তার হোসেন এখন কোথায় আছে, তা আমি জানি না।

বাহের চর হাওলাদার কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বশির আহমেদ বলেন, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সে তিন দিনের ছুটি নিয়ে স্কুলে আসেনি। শিক্ষা অফিস থেকে শুনতে পেলাম আক্তার হোসেন ১৫ দিনের ছুটি নিয়েছে। যে ঘটনার কথা লোক মারফত জানতে পেরেছি, এমন কিছু ঘটে থাকলে তা অবশ্যই নিন্দনীয়। একজন শিক্ষক এই কাজ করতে পারেন না।

ধানকাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা রতন বলেন, আক্তার হোসেন ও ওই নারীর বিষয়টি নিয়ে আমরা বসেছিলাম। মেয়ে ছেলেকে বিয়ে করবে কিন্তু ছেলে বিয়েতে রাজি না হওয়াতে আমরা সমাধান করতে পারিনি। এখন ওই নারী আক্তার হোসেনের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান করছেন।

ডামুড্যা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জালাল উদ্দীন বলেন, অসুস্থতা দেখিয়ে আক্তার হোসেন ১৫ দিনের ছুটি নিয়েছেন। তার নামে নৈতিক স্খলনের একটি বিষয় জানতে পেরেছি। কেউ অভিযোগ দিলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর, প্রকৃত শিক্ষক এই ধরনের কাজ করতে পারেন না।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত