চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের নায়ককেই বিদায় করে দিলো পিএসজি

| আপডেট :  ১৩ আগস্ট ২০২৫, ১১:৪৬  | প্রকাশিত :  ১৩ আগস্ট ২০২৫, ১১:৪৬

চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জয়ের জন্য কাড়ি কাড়ি অর্থ খরচ করেছে পিএসজি। দলে টেনেছে নেইমার জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপ্পে, লিওনেল মেসির মত তারকা সব ফুটবলারকে। তবে তারা কেউই পারেননি, সেই শিরোপা এনে দিতে পারেননি। এই তিনজনই দল ছাড়ার পর অবশেষে গত মৌসুমে ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা জিতেছে প্যারিসের দলটি।

অধরা চ্যাম্পিয়নস লিগসহ পিএসজির ট্রেবল জয়ের পথে বড় অবদান ছিল জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার। তবে দলের ইতালিয়ান এই গোলরক্ষকের সঙ্গে হঠাৎই সম্পর্ক ছিন্ন করছে ফরাসি ক্লাবটি। বুধবার টটেনহ্যাম হটস্পারের বিপক্ষে উয়েফা সুপার কাপে স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার পর দোন্নারুমা জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আর প্যারিসের ক্লাবটিতে থাকছেন না।

ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তায় বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন দোন্নারুম্মা। তিনি লিখেছেন, ‘প্রিয় প্যারিস সমর্থকরা, প্রথম দিন থেকেই আমি মাঠের ভেতর ও বাইরে সবকিছু দিয়েছি আমার জায়গা অর্জন করতে এবং প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের গোলপোস্ট রক্ষা করতে। দুর্ভাগ্যবশত কেউ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আমি আর দলের অংশ হতে পারবো না এবং দলের সাফল্যে অবদান রাখতে পারবো না। আমি হতাশ ও মনঃক্ষুণ্ণ।’

২০২১ সালে পিএসজিতে যোগ দেন ২৬ বছর বয়সী দোন্নারুম্মা। ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আর মাত্র এক বছর থাকায় সেটি নবায়ন করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কোনো সমঝোতা হয়নি। ইতালিয়ান এই গোলরক্ষক মাসে ৮ লাখ ৫০ হাজার ইউরো বেতন পেতেন, যা স্কোয়াডের মধ্যে সর্বোচ্চ বেতনের একটি। উচ্চ স্যালারি হলেও সেটি আরও বৃদ্ধির দাবি করেছিলেন দোন্নারুমা। যা শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর মধ্যেই ফরাসি ক্লাবটি শনিবার নতুন গোলরক্ষক হিসেবে লুকাস শেভালিয়েকে দলে নিয়েছে। যার ট্রান্সফার ফি ছিল ৪ কোটি ইউরো (৪৭ মিলিয়ন ডলার) এবং সম্ভাব্য ১ কোটি ৫০ লাখ ইউরো (১৭ মিলিয়ন ডলার) বোনাস। সূত্রে জানা গেছে, শেভালিয়েকে মূলত নতুন নাম্বার ওয়ান গোলরক্ষক হিসেবেই দলে আনা হয়েছে। যা দোন্নারুম্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দেয়।

এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কোচ লুইস এনরিকে বলেন, ‘দোন্নারুমা বিশ্বের সেরা গোলরক্ষকদের একজন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ব্যক্তি হিসেবেও সে অসাধারণ। কিন্তু এটাই শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলারদের জীবনের বাস্তবতা। এই ধরনের সিদ্ধান্ত সহজ হলে যে কেউ নিতে পারতো। সিদ্ধান্ত এ কারণে নেওয়া হয়, দলের জন্য যে ধরনের গোলরক্ষকের প্রোফাইল দরকার।’

ইতালিয়ান সাংবাদিকরা দোন্নারুম্মার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করলে কিছুটা বিরক্ত হয়ে এনরিকে বলেন,‘আর কোনো প্রশ্ন নয় এই বিষয়ে। এটা আমার এবং ক্লাবের যৌথ সিদ্ধান্ত। ক্লাব আমাকে সম্পূর্ণ সমর্থন করেছে। এখন আমাদের সবার জন্যই একটি সঠিক সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।’

পিএসজি ছেড়ে ভবিষ্যতে কোন ক্লাবে যাচ্ছেন দোন্নারুম্মা, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে বিদায়ের আগে পিএসজি সমর্থকদের কাছে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে চান তিনি,‘আমি আশা করি পার্ক দে প্রিন্সেসে উপস্থিত থেকে ভক্তদের চোখে চোখ রেখে বিদায় জানাতে পারব। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব।’

এই প্রসঙ্গে ক্লাব অধিনায়ক মার্কিনহোস বলেন,‘আমি এখানে ১২-১৩ বছর ধরে আছি। অনেক খেলোয়াড়কে এভাবে যেতে দেখেছি। জীবন ও ফুটবল এমনই। একদিন আমিও বিদায় নেব। যদি দোন্নারুম্মা থেকে যায়, আমরা তাকে ভালোবাসা দিয়ে গ্রহণ করব। কারণ গত মৌসুমে আমরা যে সাফল্য পেয়েছি, তার পেছনে ওর বিশাল অবদান রয়েছে।’

গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে দোন্নারুমা পিএসজির হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। লিভারপুল, অ্যাস্টন ভিলা ও আর্সেনালের বিপক্ষে দারুণ সেভ করে দলকে প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন বানান। তবে কোচ লুইস এনরিকে এমন একজন গোলরক্ষক চেয়েছেন, যিনি বল বিতরণে ভালো এবং পায়ে বল রেখে স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারেন। শেভালিয়ের মধ্যে সেটি তিনি দেখতে পেয়েছেন।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত