আদমদীঘিতে বৃষ্টিতে ভেঙে গেল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, কাঁচা মরিচের দামে সেঞ্চুরি

আদমদীঘি (বগুড়া): কম দামে কেনা বেচা করা পাইকারি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট অবশেষে ভেঙে দিয়েছে আষাঢ়ের বৃষ্টি। টানা বৃষ্টিতে কাঁচা মরিচের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উৎপাদন কমে গেছে। এতে করে আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দাম সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে। উপজেলার কুমারপুর, মারমা ও উপজেলা সদরের কাঁচা মরিচের মোকামে পাইকারি বাজারে মরিচ কেনা বেচা হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দামে।
জানা গেছে, কাঁচা মরিচ উৎপাদনে দেশব্যাপী খ্যাতি অর্জন করা আদমদীঘি উপজেলায় কাঁচা মরিচের ফলন ভালো হয়। ফলে গত এক মাস ধরে কাঁচা মরিচ কম দামে কেনা বেচা করার জন্য পাইকারি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। এই সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে কৃষকরা প্রতি কেজি মরিচ ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। অথচ, কাঁচা মরিচের পাইকারি ব্যবসায়ীরা কম দামে কাঁচা মরিচ কিনে নিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় বড় বিভিন্ন শহরে ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি করে অতি মুনাফা লুটে আসছিলেন। এতে করে লোকসানের মুখে পড়ে উৎপাদনকারী প্রান্তিক কৃষকরা।
এমন অবস্থায় গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে মাঝারি ধরনের বর্ষণে কাঁচা মরিচ গাছ হুমকিতে পড়েছে। ক্ষেতের মরিচ গাছ বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে আপ্রাণ চেষ্টা করা শুরু করেছে প্রান্তিক চাষীরা। আষাঢ় মাসের টানা বৃষ্টিতে কাঁচা মরিচের গাছ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। এতে করে হাটে-বাজারে মরিচ আমদানি কমে গেছে। ফলে বেকায়দায় পড়ে গেছে কাঁচা মরিচের পাইকারি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট। অবশেষে ভেঙে গেছে তাদের সিন্ডিকেট। এর ফলে হাট-বাজারে বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলকভাবে কাঁচা মরিচ কেনা বেচা করার জন্য দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিমত বাজার বিশ্লেষকদের।
উপজেলার কুমারপুর গ্রামের মরিচ চাষি রহিদুল ইসলাম, আজম হোসেন জানায়, ১৪ জুলাই মঙ্গলবার হাটে মান ও আকার ভেদে ১০০ ও ১১০ টাকা কেজি দামে মরিচ বিক্রি করলাম। তারা বলেন, সবসময় এরকম প্রতিযোগিতামূলক ভাবে দাম পেতে থাকলে চাষীরা কিছুটা হলেও লাভবান হবে।
কাঁচা মরিচের পাইকারি ব্যবসায়ী রায়হান আলী ও জহুরুল ইসলাম সিন্ডিকেট করার বিষয় নাকচ করে জানায়, আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে টানা বৃষ্টিতে কাঁচা মরিচের গাছের ক্ষতি হয়ে ফলন কমে যায়, এতে চাহিদা তুলনায় হাট বাজারে আমদানি কমে গিয়ে দাম বৃদ্ধি পায়। এটা স্বাভাবিক ব্যাপার, যেটা প্রতি বছর হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
