যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন থাকা মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকন দেশে ফিরছে

| আপডেট :  ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৯  | প্রকাশিত :  ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৯

পশ্চিম এশিয়ায় ২৬৬ দিনের দীর্ঘ সামরিক অভিযান শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে যাচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। এর মধ্যে ২০০ দিন যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন ছিল রণতরীটি। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও এ তথ্য জানিয়েছেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন থাকার কারণে রণতরীটির নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোবল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য এবং রণতরীতে দায়িত্ব পালনরত নাবিকদের পরিবারের পক্ষ থেকেও প্রশ্ন উঠেছে।

হাং কাও বলেন, পরিকল্পিত সামরিক রদবদলের অংশ হিসেবে আব্রাহাম লিংকন শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রণতরীটির নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কাও বলেন, ‘মিশনের প্রয়োজনেই লিংকনের অবস্থান বাড়ানো হয়েছিল। সামরিক মোতায়েন কঠিন। আর যুদ্ধ পরিচালনা করলে সেটি আরও কঠিন হয়ে ওঠে।’

এদিকে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধকে সমর্থন দিতে পশ্চিম এশিয়ায় পাঠানোর পর আব্রাহাম লিংকন ২৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে মোতায়েন রয়েছে। যুদ্ধ এখন ষষ্ঠ মাসে পড়েছে। রণতরীটি ২০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে কোনো বন্দরে নোঙর করেনি।

হাং কাও বলেন, দীর্ঘ অভিযানে রণতরীটির নাবিকদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাজা খাবারের সরবরাহ না থাকায় খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। পাশাপাশি সামরিক হুমকি বেড়ে গেলে দেশে পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগও সীমিত করা হয়েছিল।

তিনি জানান, অভিযানের সময় অল্পসংখ্যক নাবিক মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার জন্য চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে এ সময়ে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

কাও বলেন, অপারেশনাল হুমকি খুব বেশি থাকলে দেশে ফোন করার সুযোগ সীমিত করা হয়েছিল।

সিএনএন আরও জানিয়েছে, গত মাসে রণতরী থেকে একজন নাবিক পানিতে পড়ে গিয়েছিলেন। তবে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসা পরীক্ষা করা হয়। ওই নাবিক পরে দায়িত্বে ফিরেছিলেন কি না বা তাকে অন্যত্র চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

আব্রাহাম লিংকন গত বছরের নভেম্বরে সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে। পরে এটিকে পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়।

হাং কাও জানান, দীর্ঘ অভিযানে রণতরীটি ১০ হাজারের বেশি বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে এবং ১৫ লাখ পাউন্ডের বেশি গোলাবারুদ নিক্ষেপ করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বিমানবাহী রণতরীর তুলনায় এটির নাবিক ধরে রাখার হারও অন্যতম বেশি।

কাও বলেন, কোনো সন্দেহ নেই, আমাদের তরুণ নারী-পুরুষদের তাদের সক্ষমতার সীমা পর্যন্ত ঠেলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কখনো ভেঙে পড়েনি।

দীর্ঘ সময়ের যুদ্ধকালীন মোতায়েনের কারণে অনিশ্চয়তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন তৈরি হয় বলে স্বীকার করেন কাও। তার মতে, সামরিক নেতৃত্বকে একদিকে অভিযানের প্রয়োজনীয়তা এবং অন্যদিকে সেনাসদস্যদের কল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়।

তবে নাবিক ও মেরিনদের ভুক্তভোগী হিসেবে বর্ণনা করার বিরোধিতা করেন তিনি। দীর্ঘ অভিযানের পুরো সময়ে তারা এবং তাদের পরিবার যে দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তার প্রশংসা করেন কাও।

তিনি বলেন, তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাই সবসময় প্রথম অগ্রাধিকার। দেশে ফেরার পর রণতরীটির নাবিকদের বীরের মতো অভ্যর্থনা জানানো উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্র : গালফ নিউজ

 

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত