পটুয়াখালী-১: বিএনপির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেনের প্রতিদ্বন্দ্বী কে!

দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে তার এক মন্তব্য দেশজুড়ে মুখরোচক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। কয়েক দিন আগে দেশের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে তার এক মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান, অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী।
বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা, পায়রা সমুদ্র বন্দর আর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র খেপুপাড়া নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী। নির্বাচনী রাজনীতিতে এই জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন পটুয়াখালী-১। মির্জাগঞ্জ, দুমকি ও সদর উপজেলা নিয়ে এই আসনে অতীতে যারাই সংসদ সদস্য হয়েছেন, তাদের প্রায় সবাই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। এই নির্বাচনী এলাকার বিএনপির রাজনীতিতে এক প্রভাবশালী নাম আলতাফ হোসেন চৌধুরী ।
১৯৯১ সালে পটুয়াখালী-১ আসনে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ কেরামত আলী। সেবার বিএনপির মন্ত্রিসভায় তিনি ছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী। ১৯৯৬ সালে তাকে হারিয়ে সংসদ সদস্য হন আওয়ামী লীগের শাহজাহান মিয়া। ২০০১ সালে কেরামত আলী আর বিএনপির মনোনয়ন পাননি। সেবারই প্রথম বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন আলতাফ হোসেন চৌধুরী। বিএনপির মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। অবশ্য ২০০৮ সালে বিএনপি প্রার্থী আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে হারিয়ে আবারও জয়ী হন আওয়ামী লীগের শাহজাহান মিয়া। তিনিও শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নেন।
নির্বাচনে হারলেও রাজনীতি ছাড়েননি আলতাফ হোসেন চৌধুরী। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন সক্রিয়। মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন, একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেছেন। শেষবার গ্রেপ্তার হন ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে, মুক্তি পান আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে। একসময় তিনি ছিলেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি, বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তাকেই মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি।
আগামী সংসদ নির্বাচনেও পটুয়াখালী-১ আসনে বিএনপির শক্তিশালী মনোনয়ন প্রার্থী আলতাফ হোসেন চৌধুরী। তার সাথে আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী বর্তমান জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির মনোনয়ন লড়াইয়ে নিজেকে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন আলতাফ হোসেন। তিনিই পাবেন বিএনপির মনোনয়ন- এটা প্রায় নিশ্চিত।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে মাঠে এখন আওয়ামী লীগ নেই। তাহলে, আগামী সংসদ নির্বাচনে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন কে, বা কারা? আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও মাঠে আছে জাতীয় পার্টি। এই দলের শীর্ষ পর্যায়ের অন্যতম নেতা রুহুল আমিন হাওলাদার। বিচারপতি আবদুস সাত্তারের বিএনপি সরকার এবং পরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এরশাদের আমলে প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী ছিলেন। পটুয়াখালী-১ আসনে একাধিকবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। আগামী নির্বাচনে তার দল অংশ নিলে তিনিই হতে পারেন বিএনপির আলতাফ হোসেন চৌধুরীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।
সারা দেশের মতো পটুয়াখালী-১ আসনেও সবার আগে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। আগামী নির্বাচনে তাদের প্রার্থী দলের জেলা আমির অ্যাডভোকেট মো. নাজমুল আহসান। তবে এই নির্বাচনী এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান খুবই দুর্বল। ১৯৯১ সালে এই দলের প্রার্থী ভোট পেয়েছিলেন দুই শতাংশ। পরের নির্বাচনে ১৯৯৬ সালে জামায়াত প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট আরো কম, মাত্র দেড় শতাংশ। এই পরিসংখ্যান আগামী নির্বাচনে বিএনপির আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সাথে জামায়াতের নাজমুল আহসানের জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনো ইঙ্গিত দেয় না।
এই আসনে বরং জামায়াতে ইসলামীর চেয়ে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বেশি শক্তিশালী। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে এই সংগঠনের প্রার্থী সাত দশমিক ছয় শতাংশের বেশি ভোট পান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই ভোট কিছুটা কমে পাঁচ দশমিক সাত শতাংশে দাঁড়ায়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আবারও তা বেড়ে দাঁড়ায় ছয় দশমিক আট শতাংশে।
অর্থাৎ ইসলামী আন্দোলনের ভোট জামায়াতে ইসলামীর চেয়ে বেশি হলেও বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো নয়। আগামী নির্বাচনের জন্য ইসলামী আন্দোলন মুফতি হাবিবুর রহমান হাওলাদারের নাম প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেছে। ২০১৮ সালে এই আসনে দলটির প্রার্থী ছিলেন আলতাফুর রহমান।
আগামী নির্বাচন সামনে রেখে আরও কয়েকটি দল পটুয়াখালী-১ আসনে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আমার বাংলাদেশ বা এবি পার্টির প্রার্থী দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব। গণঅধিকার পরিষদ প্রার্থী করেছে কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম ফাহিমকে।
অন্যদিকে এনসিপির মনোনয়ন-প্রত্যাশী হিসেবে আছেন দলের পটুয়াখালী জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী ও কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা।
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
