আদমদীঘিতে পুলিশের উপস্থিতিতে আসামীকে পিটানোর ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ

প্রতিনিধি, আদমদীঘি (বগুড়া): বগুড়ার আদমদীঘিতে মামলার এক আসামীকে ধাওয়া করে ধরে বেধরক মারধর করে আহত অবস্থায় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনায় এলাকার জনমনে ক্ষোভ ও আলোচনা -সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লি দুর্গাপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
পুলিশের উপস্থিতিতে সম্রাট নামের ওই আসামীকে বাদি কর্তৃক মারপিটের ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, বেশ কিছু দিন পুর্বে পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত এক মারামারির ঘটনায় ছোট ভাই সাদ্দামসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন বড় ভাই মাহবুব হোসেন। দায়েরকৃত মামলার ভিত্তিতে ২৭ এপ্রিল সোমবার দুপুরে উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের আদম দূর্গাপুর গ্রামে ৪ নম্বর আসামী সম্রাটকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সাদ্দামের প্রতিপক্ষের লোকজন দলবদ্ধভাবে পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ সম্রাটের বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করলে তার মা বাইরে বেরিয়ে আসেন। এসময় পুলিশের সঙ্গে প্রতিপক্ষদের উপস্থিতি দেখে সম্রাট বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে দৌড়ে পাশের একটি বসতবাড়িতে আশ্রয় নেন। এসময় বাদিপক্ষরা তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে এবং বেধরক মারধর করতে করতে পুলিশের কাছে নিয়ে আসে। মারপিটের ফলে সম্রাট ঘটনাস্থলেই আহত হন। পরে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে ছাতিয়ানগ্রাম এলাকায় গত এক মাসে চুরির ঘটনা ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে এলাকার সচেতন মহল সূত্রে জানা গেছে। বসতবাড়ি থেকে জিনিসপত্র চুরি, দিনের বেলায় মোটরসাইকেল চুরি এবং দোকানের টিনের বেড়া কেটে মালামাল চুরিসহ বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেও এসব ঘটনায় এখনো পর্যন্ত আইনগত ব্যবস্থা বা চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা চোখে পড়েনি।
ওই এলাকার আইনজীবী আতাউর হোসেন জানান, অপরাধীকে ধরা বা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার নামে আসামিকে মারধর করা সাধারণত ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া’ হিসেবে গন্য হয়, সেটা কখনোই আত্মরক্ষার মধ্যে পড়ে না। কোনো ব্যক্তিকে মারধর করা, শারীরিক নির্যাতন করা বা জনসম্মুখে হেনস্থা করার অধিকার সাধারণ মানুষের নেই। তিনি আরও বলেন, কেউ যদি অন্য কাউকে মারধর করে, তবে তা দণ্ডবিধি অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি পুলিশের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। তাদের দায়িত্ব হলো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা। মারধর করার কোনো আইনি অধিকার তাদেরও দেওয়া হয়নি।
এবিষয়ে আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়া জানান, সম্রাট এজাহারনামীয় আসামি। বাদি বা প্রতিপক্ষের দ্বারা মারধরের ঘটনা সত্য নয়। পুলিশ গিয়ে আসামি সম্রাটকে গ্রেপ্তার করেছে।
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
