মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল তাজমিনের সঙ্গে, ধরা পড়ল সিসিটিভি ফুটেজে

| আপডেট :  ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৮  | প্রকাশিত :  ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৮

কুমিল্লার লালমাইয়ে ফসলি জমি থেকে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) চলাচলের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে। ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে নামে সে। এরপর কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে যায়। তবে ওই এলাকা ছাড়ার পর তাজমিন কোন পথে গিয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

ফুটেজে দেখা যায়, বাস থেকে নামার পর তাজমিন নূরজাহান হোটেলের পশ্চিম পাশে কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে এগিয়ে যায়। একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায় তাকে। এ সময় দোকানিকে তাজমিনকে কিছু একটা দেখাতে বা কোনো দিকনির্দেশনা দিতে দেখা যায়।

পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে নূরজাহান হোটেল এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায় তাজমিনকে। তবে এরপর তার গতিবিধি সম্পর্কে জানতে এখনও কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তার চলাচলের পথ ও সম্ভাব্য যাতায়াতের মাধ্যম শনাক্তে তদন্ত করছে পুলিশ।

এদিকে ঘটনাস্থলের কিছুটা দূরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অটোরিকশাটির সঙ্গে তাজমিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে সে কুমিল্লা শহরের রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। তাজমিন কুমিল্লা শহরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় তাজমিন। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের সময় সে বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা জানায়। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই দিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয় তাজমিন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামে সে। এরপর তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম জানান, বুধবার রাত পৌনে ২টার দিকে মেসেজের পাশাপাশি তাকে লাইভ লোকেশন পাঠায় মেয়ে। সেখানে গিয়ে তাকে নিয়ে আসতে বলে। তখন তিনি ঘুমিয়ে থাকায় মেসেজ দেখতে পাননি। ভোরে ঘুম থেকে উঠে মেসেজ দেখেন। পরে লাইভ লোকেশনে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা জানতে পারেন।

স্থানীয় বাসিন্দা তমাল বনিক জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কাঁচিকাটা-হরিশ্চর বাজার সড়কের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমিতে আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলায় গামছা পেঁচানো ছিল এবং মুখ মাটির দিকে ছিল।

ঘটনাস্থলের আশপাশের কয়েকটি ধানক্ষেতে ধানগাছ এলোমেলো অবস্থায় দেখা গেছে। তবে এসব চিহ্নের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে নিশ্চিত হতে হবে।

সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লা ফেরদৌস জানান, সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির ভেতর থেকে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ ও জামা পাওয়া গেছে। জামাটি দেখে তাজমিনের বাবা সেটি তাঁর মেয়ের বলে শনাক্ত করেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, প্রথমে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পরে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। শিগগিরই তাদের আটক করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত